শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বাংলাদেশ / ‘আমার ভাইয়ের রক্ত লাল, পুলিশ কোন চ্যাটের বাল’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল ঢাকা (ভিডিওসহ) !

‘আমার ভাইয়ের রক্ত লাল, পুলিশ কোন চ্যাটের বাল’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল ঢাকা (ভিডিওসহ) !

বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী। বুধবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শনির আখড়া, মাতুয়াইল, মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যানচলাচল ছিল খুবই কম। রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে বিরক্তি দেখায়নি কেউ।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক মনে করছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবি।

এ নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চতুর্থ দিনের মতো সড়ক অবরোধ করছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফার্মগেট, কাওরানবাজার, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকার রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে ফার্মগেট এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশও রয়েছে।

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কলেজ, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজ ও বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে।

উত্তরায় জসিমউদ্দিন রোড থেকে সব ধরনের যানবাহন ঘুরিয়ে বিমানবন্দর হয়ে মহাখালীর দিকে পাঠাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। যাত্রাবাড়ীতেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে।

মাতুয়াইল মেডিক্যালের সামনের সড়ক অবরোধ করেছে শামসুল হক খান, রফিকুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা। মেরাদিয়া বনশ্রী এলাকায় সকাল ১০টা থেকে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করছে আশেপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানকার রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি সেবার গাড়িগুলোকে নিজেরাই পার করে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শনির আখড়ায় আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাস আটকে চালকদের লাইসেন্স দেখছিল। যেসব চালকের লাইসেন্স নেই তাদের গাড়ি সাইড করে রাখতে বলছিল।

মিরপুরের ১৩ নম্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রাসপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: