শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / ওয়াকিং কমিটির বৈঠক শেষে মালয়েশিয়া শ্রম বাজার নিয়ে যা জানালো দু দেশের শ্রম মন্ত্রী!

ওয়াকিং কমিটির বৈঠক শেষে মালয়েশিয়া শ্রম বাজার নিয়ে যা জানালো দু দেশের শ্রম মন্ত্রী!

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের অচলাবস্থা কাটাতে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে বৈঠকে বসছে যৌথ ওয়ারকিং কমিটি। আলোচনায় দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অংশ নিতে রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় চারদিনের এ সফরে মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ড. মনিরুস সালেহিন (কর্মসংস্থান), মন্ত্রীর একান্ত সচিব, উপসচিব মোহাম্মদ সাহিন (কর্মসংস্থান), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি ও একজন উপসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, আইন মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব।

এমওইউ মোতাবেক দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্টারের সাথে শ্রমবাজারের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর বৈঠক করবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার ওয়ার্কিং কমিটিতে রয়েছেন, তানশ্রি আচিহ এর নেতৃত্বে সাবেক ডেপুটি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কিছুন, সাবেক এক বিচার পতি, সাবেক আইনজীবি ও সাবেক ডি আইজিসহ ৭ সদস্যর প্রতিনিধি দল।

এই ওয়ার্কিং কমিটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য সকল রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ করে দেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দখলে নিতে নতুন করে আবারো সিন্ডিকেটের পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে শ্রমবাজারে যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেশন হবে না। সব এজেন্সিই কাজ করতে পারে, এমন প্রপোজাল ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আলোচনা হবে। ৫৬ এজেন্সির কথা উঠেছে সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।

কুয়ালালামপুরে সোমবার থেকে দুইদিন ব্যাপী দুদেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হতে যাচ্ছে। বৈঠকেই ঠিক হবে কোন পদ্ধতিতে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পদ্ধতির ক্ষেত্রে নতুন করে দু’দেশকেই যাচাই বাছাই করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১লা সেপ্টেম্বরের পর থেকেই নতুন করে ২৫ থেকে ৩০ রিক্রুটিং এজেন্সি দিয়ে আবারো মালয়েশিয়া বাজার দখলে নিতে পায়তারা করছে আরেকটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ আছে, মালয়েশিয়ার নতুন সরকারের ঘনিষ্টজন পরিচয় দেয়া দাতো ড. রইস হুসিন এরই মধ্যে বৈঠক করে গেছেন একাধিক মন্ত্রণালয় ও দেশের প্রভাবশালী এজেন্সি মালিকদের সাথে।

শ্রম রপ্তানীর সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, কোন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে চান না তারা। ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধামন্ত্রী ড. মাহথির মোহাম্মদের ঘোষণা অনুসারে সকল এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করা, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়, বেতন এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি দুদেশের বৈঠকে অগ্রাধিকারের দাবি জানান তারা।

এ দিকে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন সিস্টেম এসপিপিএ ১লা সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। কথা ছিল পাইপলাইনে থাকা কর্মীদের সকল কাজ চলবে। কিন্তু এখন চিত্র উল্টো । কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেয়া হচ্ছে না ভিসার সত্যায়ন। বন্ধ আছে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের ভিসা স্ট্যাম্পিংও।

এসপিপিএ সিস্টেম বন্ধ হওয়ার পর যেসব শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি তাদের বিষয়টিও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আলোচনায় উঠবে বলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: