শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধনী হয়ে গেছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী ক্লিনার।

কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধনী হয়ে গেছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী ক্লিনার।

আন্তর্জাতিক বাঘা বাঘা গণমাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) স্থান করে নিয়েছিলেন, সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাসকারী বাংলাদেশী একজন ক্লিনার বা পরিচ্ছন্ন কর্মী। ইকামায় উল্লেখিত নামের সূত্র ধরে সিএনএন তাকে আব্দুল করিম হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে জানা যায় তার নাম নজরুল ইসলাম এবং পিতার নাম আব্দুল করিম। এই নজরুল ইসলাম রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করতে করতে একটি স্বর্ণের দোকানের দামি দামি গহনার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কোন এক ব্যক্তি সে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। একজন সাধারণ ক্লিনারের দামি দামি স্বর্ণের গহনার দিকে তাকিয়ে থাকা নিয়ে শুরুতে উপহাস হয় অনেক। কিন্তু এর মোড় ঘুরতেও সময় লাগেনি।

মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে নজরুল ইসলামকে খুঁজে বের করতে শুরু করে সহানুভূতিশীল কিছু মানুষ। তারপর থেকেই উপহারের বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন নজরুল ইসলাম। বয়সের হিসেবে প্রবাস জীবনের শেষ দিকে এসে ভাগ্য বদলে গেলো নজরুল ইসলামের। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এখন পর্যন্ত যত উপহার পেয়েছেন তিনি তাতে তার এখন ঐ পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ না করলেও চলবে। নজরুল ইসলাম নিজেও বুঝতে পারেননি যে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রথমে উপহাসের পাত্র হওয়ার পর, মানুষের সমর্থন তার দিকে ঘুরে যাবে এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে বড়লোক হয়ে যাবেন তিনি। তার ছবি যখন প্রথম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় তখন সেই ছবির সাথে লেখা হয়েছিল-

‘তুমি শুধু চেয়েই দেখতে পারবে। আসলে ময়লা-আবর্জনা দেখা ছাড়া তোমার করার কিছু নেই।’
এমন মন্তব্য হৃদয়বান সৌদিরা আহত হয়। এতেই ঘুরে যায় নজরুল ইসলামের ভাগ্য। উপহারের পর উপহার আসতে থাকে নজরুল ইসলামের কাছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬ সেট দামি স্বর্ণের গহনা, ৭টি দামি মোবাইল ফোনসহ সৌদি নাগরিকদের কাছ থেকে হাজার হাজার রিয়াল উপহার পেয়েছেন নজরুল ইসলাম। এছাড়া অন্য ধরণের অনেক উপহারের কথা তো আপনারা গতকালের প্রতিবেদন থেকেই জেনেছেন। উপহারের সে ধারা এখনো অব্যাহত আছে।

এ সংক্রান্ত আগের প্রতিবেদন: প্রথমে উপহাস, তারপর উপহারের বন্যায় ভাসছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী ক্লিনার আব্দুল করিম

নজরুল ইসলাম বলেছেন- তার সহকর্মীরা বলার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেনই না যে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে কি ঘটছে। তিনি জানিয়েছেন, উপহার হিসেবে পাওয়া সোনার গহনা এবং মোবাইল ফোনগুলো তিনি তার স্ত্রী এবং সন্তানদের দিয়ে দেবেন। নজরুল ইসলামের ৩ ছেলে ও এক মেয়ে। সৌদি নাগরিকদের এই সমর্থনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তিনি। যে কোম্পানীর অধীনে নজরুল ইসলাম কাজ করেন সেখান থেকে নজরুল ইসলাম মক্কায় যাবেন ওমরা করতে। সেখানে গিয়ে এই পুরষ্কারের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং মহানুভবতার জন্য সৌদি নাগরিকদের জন্য দোয়া করবেন।

সৌদি নাগরিকরা বলেছেন, প্রথমে নজরুল ইসলামের ছবি দিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন যে ব্যক্তি সে আসলে সৌদি আরবকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধনী হয়ে গেছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী ক্লিনার।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: