শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ইতালি / মসজিদ বন্ধ করায় ইতালিতে মুসলিমদের ক্ষোভ।

মসজিদ বন্ধ করায় ইতালিতে মুসলিমদের ক্ষোভ।

ইতালির রাজধানী রোমে ছোটখাত মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাজার হাজার মুসলিম। বাংলাদেশী সংগঠন ধূমকেতুর উদ্যোগে তারা রোমের কলোসিয়ামের বাইরে নামাজ আদায় করে এ ক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের অনলাইন এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়েছে, রোম কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শহরে ছোট পরিসরের ৫টি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। এ মসজিদগুলো ‘মেকশিফট’ বা ছাপরা জাতীয়। কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে মুসলিমরা দেখছেন তাদের ওপর ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে। তাই শুক্রবার তারা রোমের ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের সামনে সমবেত হন। এর বাইরেই নামাজ আদায় করেন। এর মাধ্যমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাজার হাজার মুসলিম। খবরে বলা হয়েছে, যুব সমাজ মৌলবাদী বা জঙ্গি হয়ে উঠছে এমন আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সেখানকার মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে।

নামাজ পড়ে মুসলিমরা কলোসিয়াম থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে নামাজ আদায় করেন। এ সময় ইমামতি করেন একজন মুসলিম। ইতালির অনেক মুসলিমই বিশ্বাস করেন ইউরোপে সাম্প্রতিক যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার ভয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে। উল্লেখ্য, ইসলামকে সরকারিভাবে ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয় নি ইতালি। তাই একই সঙ্গে উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে সেখানে যাওয়া মুসলিমরা মনে করেন বর্ণবাদ ও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তারা ।

কলোসিয়ামের এই প্রতিবাদ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশের ধূমকেতু নামের একটি গ্রুপ। এই গ্রুপটির অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে রোমে মসজিদ বন্ধ করেছে। সম্প্রতি সেখানে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ফ্রাঁন্সেকো তিয়েরি নামে একজন। তিনি বিভিন্ন ইসলামিক গ্রুপের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেছেন, আমাদের মনে হচ্ছে মানুষ আমাদের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল তুলছে। আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। আমাদের সমাজ শান্তিপূর্ণ। আমাদের কোনো রাজনৈতিক আকাঙ্খা নেই। এখানে নামাজ আদায় করতে আমাদেরকে বিভিন্ন স্থান ভাড়া নিতে বাধ্য হতে হয়। এ যেন আমাদের নিঃশ্বাস নেয়ার একটু চেষ্টা। আমরা যদি এটা করতে না পারি, তাহলে আমরা মারা যাবো।

তবে মুসলিমদের বিক্ষোভকে অভিবাসন বিরোধী নর্দান লিগ পার্টির নেতা বারবারা সালতামার্টিনি অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা আর কখনো হতে দেয়া যাবে না। আগস্টে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানজেলিনো আলফারনো বলেছিলেন, দেশের ভিতরে কোনো গ্যারেজের ভিতর মিনি মসজিদ চালানো অনুমতি দেয়া হবে না। ওদিকে ব্রাদার্স অব ইতালি পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি ইতালির ভাষায় মুসলিমদের নামাজ আদায় বাধ্যতামুলক করার আহ্বান জানান। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইতালির বাইরে থেকে অর্থায়নে যেকোনো মসজিদ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ রয়েছে রোমে। এটি দ্য মস্ক অব রোম নামে পরিচিত। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাট মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা রয়েছে। সরকারি হিসাবে বৈধভাবে ইতালিতে বসবাস করছেন ১০ লক্ষাধিক মুসলিম।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: