শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী জেলে, নিরব হাইকমিশন!

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী জেলে, নিরব হাইকমিশন!

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছেন বৈধ বাংলাদেশিরাও। নাম বিহীন দালালের মাধ্যমে বৈধ হয়ে অন্যত্র কাজের মধ্যেই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী যে মালিকের নামে ভিসা করা হয়েছে, সেই মালিকের কাজ করতে হবে, অন্যথায় তাদের কে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। আর অন্য জায়গায় কাজ করা অবস্থায় ধরা পড়লে যেতে হবে জেলে, এমনটি জানালেন ঐ বিভাগের পরিচালক।

অভিবাসী বিভাগের মহাপরিচালক দাতো সেরি মোস্তফা আলী বলেন, বিদেশি শ্রমিকরা আজ বৈধ, কাল অবৈধ। তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিকরা ভিসা করে মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলকারখানায় কাজ করতো। যা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কে কালো অধ্যায় হিসাবে বিবেচিত করা হয়। বিদেশি শ্রমিকদের বাসস্থান ও কিঞ্চিৎ মজুরিতে জিম্মি করে বছরের পর বছর কাজ করানো হয়েছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়াতে আর কোন আউটসোর্সিং কোম্পানির অ্যাপ্রভাল বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখনো হাজার হাজার বিদেশীরা বিভিন্ন কোম্পানির নামে ভিসা করে অন্য কোম্পানিতে কাজ করছে।আর অন্যত্র কাজ করলেই তারা অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে বৈধ হয়েও অবৈধ তালিকায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিন দিন বেশি হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার বাংলাদেশী ও মালায় এজেন্টদের প্রলোভনে অন্যত্র কাজ করার নিশ্চয়তায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা তাদের কোম্পানিতে ভিসা করেছেন। প্রতিবছর এজেন্টকে এক থেকে দুই হাজার মালাই রিংগিত দিতে হবে।

কিন্তু বর্তমানে মালয়েশিয়ায় চলমান সাঁড়াশি অভিযানে বৈধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হলে ওই সব এজেন্ট এর আর খোঁজ মেলেনি। বৈধ হয়েও জেলের ভাত খেতে হচ্ছে হাজার হাজার বাংলাদেশিদের।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় দিন দিন বাড়ছে কমিউনিটি সংখ্যা। কিন্তু অবৈধ এবং নির্যাতিত বাংলাদেশীদের পক্ষে হাতে গোনা কয়েকজন কিছু করলেও অন্য কমিউনিটি নেতাদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে গেছে কমিউনিটি সংগঠনগুলো। যেন তারাও দর্শকের ভূমিকায় অবতরণ।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের অর্ধশত সংগঠন পরিপূর্ণ হলেও বাস্তবে ঐ সংগঠনগুলির কাজ কি তা এখনো জানতে পারিনি হতভাগ্য বাংলাদেশিরা। এ ব্যাপারে কথা হয় মুন্সীগঞ্জের সোহাগ হোসেন এর সঙ্গে। সোহাগ এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি শুনেছি বাংলাদেশের কমিউনিটি সংগঠনগুলো অসহায় এবং নির্যাতিত বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে। যারা দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়ার জেলের ঘানি টানছেন তাদের টিকিটের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমি খুঁজেই পেলাম না, কারা এই কাজগুলো করছে। এমন হাজারো সোহাগের প্রশ্ন তাহলে কি আমাদের পাশে কেউ নেই।

আরো বলেন,দীর্ঘদিন জেলের ঘানি টানছে হাজার হাজার বাংলাদেশি, কিন্তু ফিরেও তাকায়নি ঐসব সংগঠনগুলো। তাই বিভিন্ন বাহিনীর হাতে আটক বাংলাদেশিদের সরকারি সহায়তায় দেশে পাঠানোর জোর দাবি জানিয়েছে অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: