Warning: mysqli_num_fields() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /home/nhcaltgo/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 3182
মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশী ‘নষ্ট মেয়ের’ করুণ কাহিনী – Probashir Jibon ।। প্রবাসীর জীবন Warning: mysqli_num_fields() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /home/nhcaltgo/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 3182
class="post-template-default single single-post postid-10125 single-format-standard">
শিরোনাম

Warning: mysqli_num_fields() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /home/nhcaltgo/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 3182
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশী ‘নষ্ট মেয়ের’ করুণ কাহিনী

মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশী ‘নষ্ট মেয়ের’ করুণ কাহিনী

বিদেশে বাংলাদেশী মেয়েরা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে- এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মালয়েশিয়ার এখানে সেখানে মেয়েরা দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে আছে বলে প্রায়ই শোনা যায়। ধারনা করা যায়, কলিং ভিসার নামে যে পরিমান মেয়ে মালয়েশিয়া এসেছে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশী এসেছে ট্যুরিষ্ট ভিসায় বা কারো বউ সেজে ডিপেন্ডেন্ট ভিসায়।

জীবনে স্বচ্ছলতা আনার জন্য একটি মেয়ে যখন মালয়েশিয়া আসে তখন তার চোখে মুখে থাকে রাজ্যের স্বপ্ন। অবশ্য অনেকের সরাসরি যুক্তি ভালো মেয়েরা বিদেশে কাজ করতে আসে না। তাদের উদ্দেশ্য থাকে ভিন্ন। কিন্তু বহু মেয়ের অভিযোগ, খারাপ কাজ করে পয়সা উপার্জন করতে চাইলে মালয়েশিয়া আসতে হয় না, তা বাংলাদেশেই সম্ভব। টেলিফোনে সাথী (ছদ্মনাম) নামের একটি মেয়ে জানায় তার জীবন কাহিনী। যা মালয়েশিয়ার বহু বাংলাদেশী মেয়ের জীবন কাহিনীও প্রায় একই রকম বলে সাথীর দাবী। ছদ্মনাম প্রকাশের শর্তে সেই মেয়েটির সরল স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে “আমি কেন নষ্ট হলাম”।

মুন্সীগঞ্জের মেয়ে সাথী। গত কয়েক বছর আগে ট্যুরিষ্ট ভিসায় আসে মালয়েশিয়া। সর্বসাকুল্যে খরচ পরে ১ লাখ টাকা। বর্তমানে থাকে কুয়ালালামপুরের নিলাই এলাকায়। কথা ছিল সে ভালো বেতনে কাজ করবে, মালিক থাকা খাওয়া ও ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা করে দিবে। কিন্তু এখানে এসে সে দেখেতে পায় সব মিথ্যে। প্রতারনার জালে আটকে পড়েছে সে। ওলট পালট হয়ে যায় তার স্বপ্নগুলো। খুঁজে পায় এক অন্ধকার জগৎ। ঘন্টা খানেকের টেলিফোন আলোচনায় সাথী জানায়, আমার একটি সুন্দর সংসার ছিল। স্বামী সন্তান ছিল। বছর দশেক আগে মা বাবার অমতে অল্প বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল এলাকার এক ছেলেকে।

বছর খানেক পর তাদের সংসারে ফুটফুটে একটি মেয়ে আসে। এরপর আস্তে আস্তে চুরমার হতে থাকে সাথীর সুখের সংসার। স্বামী ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে ঘরের আসবাব পত্র সব বিক্রি করতে থাকে। স্বামী ঠিকমত কাজ কর্ম করে না। সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। ক্রমশঃ বিক্রি হয়ে যায় তার কিছু স্বর্নালংকারও। সাথী প্রতিবাদ করলে নেশাগ্রস্থ স্বামীর মারধর কপালে জুটে। শিশুর দুধ কেনা দূরের কথা ঠিকমত সে ঘরেও ফিরে না। জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠে সাথীর। সে ভাবে কি ভুল সে করেছে। মা বাবার কাছেও মুখ তুলে দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষিত মেয়ে সাথী বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজতে থাকে। অন্ততঃ সন্তানের জন্য কিছু একটা করতে চায় সে।

চাকুরীর জন্য এখানে সেখানে ছুটেও লাভ হয় না। তারপর টাকার জন্য নেশাখোর স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়েছে। একসময় পরিচয় হয় ঢাকার ছেলে জসিমের সাথে। তাকে সে ধর্মভাই বলে ডাকে। জসিমও কথা দেয় সে তার জন্য একটা পথ খুঁজে দিবে। মালয়েশিয়ায় যাতায়াত রয়েছে জসিমের। সে সুবাদে সাথীকে মালয়েশিয়া চাকুরীর প্রস্তাব দিলে সাথী খুশীতে আটখানা হয়ে পড়ে সে। কখনো স্বপ্নেই ভাবেনি বিদেশ আসবে। বড় বোনের কাছে লুকিয়ে রাখা স্বর্নালংকার বিক্রি ও ধারকর্জ নিয়ে মালয়েশিয়ায় ট্যুরিষ্ট ভিসায় আসে সাথী। মেয়েটিকে রেখে আসে বোনের কাছে। কিন্তু মালয়েশিয়া এসে জসিমের কথা ও কাজে মিল খুঁজে পায় না সে।

জসিম তাকে তুলে দেয় বাবুল নামে এক প্রতারক দালালের হাতে। পাসপোর্ট গচ্ছিত থাকে বাবুলের কাছে। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষে ওভার ষ্টে হয়ে পরে সে। এক ঘরে তার বন্দী জীবন কাটে। দেশে রেখে আসা মেয়েটির কথা মনে পড়ে। ইচ্ছে হয় দেশে ফিরে যেতে। কিন্তু সে পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বাবুলের কথামত তাকে চলতে হয়। বাবুল তাকে খারাপ প্রস্তাব দেয়, সাথী ঘৃনাভরে তা প্রত্যাখ্যান করে। বাবুল ও তার দু’বন্ধু এক রাতে মাতাল হয়ে সারা রাত তাকে উপর্যুপরি করে। কোথাও বিচার দেবার পথ থাকে না তার। সাথী বুঝতে পারে তার ঐ ধর্মভাই (?) বাবুলের কাছে তাকে বিক্রি করে গেছে। একদিন অপর এক বাংলাদেশী তাকে চাকুরী দেবার নাম করে সেখান থেকে তাকে পালিয়ে নিয়ে যায় পুচং এলাকায়। কিন্তু সেও চাকুরী না দিয়ে তাকে সে ভোগ করে। এদিকে কয়েকমাস হলো দেশে একটা টাকাও পাঠাতে পারে না সে। এমন কি নিজের জন্যও টাকা উপার্জন করতে পারে না। ঐ ছেলেটিই তার উপার্জনের পথ খুলে দেয়।

সাথী এখন সবার। টাকার বিনিময়ে সে এখন দেহ বিক্রি করে। কখনো পুচং, কখনো কাজাং হয়ে তারপর বর্তমানে নিলাইতে ৫টি মেয়ে একসাথে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। টেলিফোনে সাথী জানায়- এখন আমার টাকার অভাব নেই। মাসে ২ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিতও আয় হয়। অবশ্য বাংলাদেশী দালালরা এর একটা অংশ ভাগ পায়। ওরাই খদ্দের জোগাড় করে দেয়। তবে চায়নীজ নিউ ইয়ারে তার ইনকাম হয়েছে সবচেয়ে বেশী ৫ হাজার রিঙ্গিত। সাথী জানায়, মাঝে মধ্যে তার দালালরাই পুলিশের ঝামেলা থাকলে সেটা মেটায়। টেলিফোন আলাপে সাথীকে বলা হয় অনেকের অভিযোগ আপনাদের এসব কর্মকান্ডের কারনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে আপনি কি বলবেন? প্রতিবাদীকন্ঠে জ্বলে উঠে সে। কেন, আমি কি বেশ্যাবৃত্তি করার জন্য মালয়েশিয়া এসেছিলাম না চাকুরী করতে এসেছিলাম? যতগুলো মেয়েকে আমি দেখেছি তারা চাকুরী করতে এসে বাংলাদেশী ছেলেদের কারনেই এদেশে এ পেশায় এসেছে। পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে।

মেয়েরা ছেলেদের কাছে গেলে বেশ্যা হয়, আর ছেলেরা মেয়েদের কাছে গেলে হয় বাদশা। আমাদের জন্য যদি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় তাহলে ছেলেরা কেন আমাদের কাছে আসে? তারাতো দেশে বাপ মা কে টাকা না পাঠিয়ে ইন্দোনেশীয়ান মেয়েদের নিয়েও ফুর্তি করছে। কই কেউ তো বলছে না ওদের জন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে যারা আমাদের নষ্ট বলে নানা মন্তব্য করে তারাই চোরের মতো আমাদের কাছে এসে তাদের ক্ষুধা মেটায়। আমার কাছে রাতের অন্ধকারে বড় বড় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও নামী দামী বাংলাদেশী লোকও আসে। যদি এদের মুখোশটা খুলে দেই তখন ঐ ভদ্রলোকদের অবস্থাটা কি দাঁড়াবে? দালালরা যখন মালয়েশিয়ায় লোক এনে এখানে সেখানে ফেলে রাখে, দু’নম্বরী কাজ করে, অপহরন করে তখন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় না। আর আমরা পয়সার জন্য দেহ বিক্রি করলে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায়? আমি কেন বেশ্যা হলাম? বাংলাদেশের ঐ নরপশুরাই তো আমাকে বেশ্যা বানিয়েছে। আমি না খেয়ে দুই দিন এদেশে কাটিয়েছি কেউ তো এসে বলে নি- বোন এই নাও ১০টা টাকা দিলাম এটা দিয়ে খেও। যখন আমি শরীর খুলে দিলাম তখন ওদের টাকার অভাব হয় না। বেশ্যা কে, আমি না ওরা। তাহলে কেন আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হয়।

সাথীর তীব্র অনুরোধ- দাদা আমার কথাগুলো আপনি পত্রিকায় তুলে ধরবেন। প্রশ্ন করা হয় এ পর্যন্ত দেশে কত টাকা পাঠিয়েছেন? তৃপ্তিমাখা কন্ঠে জানায়, প্রায় ৪ লাখ। মেয়েটি এখন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ছে। দেশে একটা ছোট্ট জায়গা কিনেছি। দেশে যাবেন কবে? কিছুক্ষন নিরুত্তর থেকে সাথী জানায়, কবে যাবো এখনো স্থির করিনি। তবে আর কিছু টাকা হলে আমার একটা স্বপ্ন আছে দেশে গিয়ে একটা ভালো দোকান দেব। মেয়েটিকে ডাক্তার বানাবো।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি:

Warning: mysqli_num_fields() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /home/nhcaltgo/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 3182