শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন নানা সমস্যায় জর্জরিত

মালয়েশিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন নানা সমস্যায় জর্জরিত

মালয়েশিয়া বাজারে প্রবেশ করা নতুন বাংলাদেশি শ্রমিকরা ভাল নেই। বেতনের সিংহভাগই শেষ হচ্ছে দৈনন্দিন ব্যয়ে। এছাড়া সে দেশে গিয়ে কাঙ্খিত কাজও পাচ্ছেন না অনেকে। দেশটিতে কর্মরত কয়েক লক্ষ পুরাতন প্রবাসীরা ও রয়েছেন ভিসা জটিলতায় গ্রেফতার আতঙ্কে। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের।

দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালে খুলে যায় মালয়েশিয়ার বাজার। বছরে ৪ লাখ করে ৩ বছরে ১২ লাখ শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও, প্রথম বছরে পাঠানো সম্ভব হয় একলাখের কিছু কম। কিন্তু গেল বছর সেদেশের বাজারে প্রবেশ করা নতুন শ্রমিকদের অভিজ্ঞতাও ভাল নয়। গড়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকেই নিরাশ হয়ে দেশে ফিরে আসছেন।

কুয়ালালামপুরের ক্লাং লামা একটি কার ওয়াশে কাজ করেন শরীয়তপুর জেলার মো: নুরুন্নবী চৌধুরী তিনি প্রতিবেদক কে বলেন, আমি সাড়ে ৩ লক্ষ টাকায় প্রফেশনাল ভিসায় মালয়েশিয়া এসেছি আজ দেড় বছর হয়েছে ভিসার কন্টাক্ট ছিল দু বছর ১ বছর শেষ হওয়ার পরে আবার ভিসা নবায়ন করতে গেলে কোম্পানি আমাকে জানিয়ে দেয় আর নবায়ন করা হবে না। তখন আমি অবৈধ হয়ে গেলাম ২০১৭ সালে সরকার কর্তক ঘোষনা দেওয়া নতুন করে ভিসা করতে গেলে সরকার ও দালাল কে দিতে হবে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন আমি আসল টাকাই তুলতে পারিনি তাই এত টাকা পাবো কোথায়। আমার বেতন ১ হাজার রিংগিত ওভার টাইম মিলিয়ে ১৩ শ রিংগিত পাই যা বাংলায় ২৬ হাজার টাকার মত এর সিংহভাগই খরচ হয়ে যায় থাকা খাওয়া অন্যন্যা খাতে। এখন আমি দেশে চলে যাবো না থাকবো ভেবে পাচ্ছি না আবার এদিকে পুলিশের গ্রেফতারের ভয় ও আছে।

অভিবাসনের গুণগত মান বজায় রাখার কথা বলে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায়। যার কারণে কর্মী রপ্তানীর লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। কিন্তু গুণগতমান বজায় রাখাও সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাছা নতুন ভিসা পাওয়া প্রতিবন্ধকতা, ও মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশী হাইকমিশনের অব্যাহত দূর্নীতি, কম বেতন, চাকুরীর অনিশ্চয়তা ইত্যাদি নানা জটিলতার অভিযোগ প্রবাসীদের।

কুয়ালালামপুর শহরের পেতালিং জায়ায় একটি চশমা তৈরির ফ্যাক্টরীতে কাজ করেন চাঁদপুর জেলার হোমনা থানার মোঃ ইব্রাহিম মিয়া বলেন, সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া এসেছি আজ ৪ বছর হয়েছে সবেমাত্র ঋন শোধ করলাম এখন মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নাজীব রাজ্জাকের স্ত্রীর মালিকানা কোম্পানি মাইইজি এর মাধ্যমে ভিসা করার জন্য পার্সপোট জমা দিয়েছি ১ বাংলাদেশী দালালের কাছে ১ বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে শুধুমাত্র ইমিগ্রেশনে গিয়ে ১ দিন ফ্রিঙ্গার প্রিন্ট করেছিলাম এখনো মেডিকেল লেভী পেইড করার বাকী আছে কোন বছর ভিসা পাবো তার কোন নিশ্চয়তা দিচ্ছেনা দালাল। এদিকে প্রতিরাত আতঙ্কে কাটে পুলিশের গ্রেফতারী অভিযানের।

শ্রমবাজারগুলোতে সরকারের পর্যবেক্ষণ না থাকা এবং কুটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে দাবী রপ্তানীকারকদের। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার বাজার খুলেছে। তাই নানান রকম সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যা পর্যবেক্ষন করে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া গিয়েছে। ২০১৬ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটি বাংলাদেশী বৈধ প্রবাসী রয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষ। অবৈধ বাংলাদেশী প্রবাসীর সঠিক হিসাব মালয়েশিয়া কিংবা বাংলাদেশী হাইকমিশন কারো কাছে নেই তবে ধারনা করা হচ্ছে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা ১০ লক্ষের ও বেশি হতে পারে।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: