শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ার জেলখানার ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা জানালেন প্রবাসী বাংলাদেশি! বন্দিশিবিরের চেয়ে কারাগারে পরিস্থিতি খারাপ ছিল।

মালয়েশিয়ার জেলখানার ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা জানালেন প্রবাসী বাংলাদেশি! বন্দিশিবিরের চেয়ে কারাগারে পরিস্থিতি খারাপ ছিল।

বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসী বলেন, শিবিরের চেয়ে কারাগারে পরিস্থিতি খারাপ ছিল। শহীদুল ইসলাম (৩৩) তার আবেদনপত্রের সব কাগজপত্র থাকলেও তাকে ২০১৬ সালে পাঁচ মাসের জন্য জেলে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমাকে পাঁচবার আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার কোনো আইনজীবী ছিল না। পাঁচ মাস পর, আমি মুক্তি পেয়েছিলাম কারণ আমার নথি বৈধ ছিল।

‘তাই, কেন আমাকে রাখা হয়েছিল? সেই পাঁচ মাসের জন্য কারাগারে? কে এই ক্ষতিপূরণ দেবে? ‘১৩ সেপ্টেম্বর সেলেঙ্গার রাজ্যে সাইবারজায়া একটি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শহীদুল ইসলাম এ প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, কারাগারে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ২৫ জনকে সাময়িকভাবে থাকতে দেওয়া হয়েছিল।’ কারাগারের দিনগুলোতে আমি ফিরে আসার কথা ভাবতাম ও ফিরে আসব না (মালয়েশিয়া)। আমি প্রতি রাতে কাঁদতে থাকি। ‘বগুড়ার শহীদুল বলেন, আমি তখনও মনে মনে নিজের জন্য খারাপ বোধ করি।’

কুয়ালালামপুরের একটি অধিকার সংস্থা উত্তর সাউথ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড্রিয়ান পেরেরা বলেন, অভিবাসীদের নির্বিচারে গ্রেফতার পুলিশের নতুন কিছু নয়।

তিনি বলেন, ‘অনেক অভিবাসীরা ধরপাকড়ের কাহিনী আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে কিন্তু তারা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে ভয় পায় কারণ তারা সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা রাখে না। এমনকি নাগরিক সমাজ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।’

তিনি বলেন, অভিবাসীদের অবস্থা যাচাইয়ের ঘটনাটি ঘটতে পারে। সুতরাং যারা দস্তাবেজ ধারণ করে তাদেরকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতার লজ্জাজনক অপব্যবহার ও সরকারি সংস্থার বর্জ্য বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অভিবাসীদের প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করার এবং দুর্নীতি ও অধিকার লঙ্ঘনের চক্রটি শেষ করার জন্য নিরাপদ উপায় খুঁজে বের করা উচিত।

অ্যাড্রিয়ান বলেন, অনেক বাংলাদেশি অভিবাসী মালয়েশিয়ার পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে গ্রেফতার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

একজন শ্রমিক নাম উল্লেখ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিরা অভিবাসন অভিযানে ও কারাগারগুলোতে চিকিৎসা করা হয়, সে বিষয়ে অপমানজনক।

মালয়েশিয়ার ক্ল্যাং এর এমপি চার্লস সান্টিয়াগো অভিবাসীদের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছেন। এমপি চার্লস সান্টিয়াগো অভিবাসীদের গ্রেফতার না করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানান। এদিকে ভয়ে ভয়ে দিন-কাটানো বাংলাদেশিরা অনেকেই অভিযোগ করছেন কথিত এজেন্টদের হাতে প্রতারিত হওয়াতেই তারা আজ অবধি সে দেশে বৈধ শ্রমিকের স্বীকৃতি পাননি। ২০১৬র ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার সরকার রিহায়ারিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার একটা সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু যে তিনটে ভেন্ডর কোম্পানিকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাদের নাম ভাঙিয়ে বেশ কিছু নকল এজেন্ট বা দালাল বাংলাদেশিদের সঙ্গে বিরাট প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।’

খোজঁনিয়ে জানা গেছে, যেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা না-বুঝে ওই ভুয়া এজেন্টদের হাতে চার থেকে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত তুলে দিয়েছেন, তাদের আঙুলের ছাপও নেওয়া হয়েছে-কিন্তু এজেন্টরা ওই টাকাটা মেরে দেওয়ায় তাদের আর কখনওই বৈধ হয়ে ওঠা হয়নি।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: