শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ধ্বংসের নেপথ্যে কারা ?

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ধ্বংসের নেপথ্যে কারা ?

সিন্ডিকেটচক্রে বাংলাদেশের ১০টি জনশক্তি রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান (রিক্রুটিং এজেন্সি) এবং মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানি জড়িত। বাংলাদেশি ১০টি এজেন্সি হলো– ইউনিক ইস্টার্ন ক্যারিয়ার ওভারসিজ, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, এইচএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, সানজারি ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম ও আল ইসলাম ওভারসিজ।

বাংলাদেশের ১০ এজেন্সির মধ্যে ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জনশক্তি রফতানিকারক সমিতি- বায়রার সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের মালিক মো. নূর আলী। প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটসের মালিক আরিফ আলম। তিনি একজন মন্ত্রীর শ্যালক। ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক বায়রার মহাসচিব মো. রুহুল আমিন।

রাব্বী ইন্টারন্যাশনালের মালিক বায়রার সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ বশির। প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজমের মালিক বায়রার সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা। এর সঙ্গে যুক্ত আছেন ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের প্রথম সারির একজন নেতা।

সানজারি ইন্টারন্যাশনালের মালিক শেখ আবদুল্লাহ। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন একজন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এক প্রটোকল কর্মকর্তা। ক্যারিয়ার ওভারসিজের মালিক রুহুল আমিন ও বদরুল আমিনরা ৩ ভাই। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আছেন সরকারের একজন মন্ত্রী এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক। আল ইসলাম ওভারসিজের মালিক জয়নাল আবেদীন জাফর। তিনি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পরিচালক। আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের পরিচালক তুহিন সিদ্দীকি। আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক মো. রুহুল আমিন।

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানির এই চক্র গড়ে ওঠে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের শাসনামলে। এ চক্রের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, একবার ৭৫০টির বেশি বৈধ এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল, যাতে এদের মাধ্যমে কর্মী নেওয়া যায়। কিন্তু মালয়েশিয়ার তখনকার সরকার সেই তালিকা অনুমোদন দেয়নি। এর আগে বাংলাদেশ থেকে যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে পারত।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে নাজিবের রাজনৈতিক জোটকে পরাজিত করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোট। শপথ নেয়ার দেড় মাসের মাথায় মাহাথির মোহাম্মদের সরকার বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানির চলতি পদ্ধতি বন্ধের ঘোষণা দেয়। শেষ পর্যন্ত দেশটি তা কার্যকরও করেছে গত ১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ- মালয়েশিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জনশক্তি প্রেরণের নতুন পদ্ধতি নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এমনকি এ ক্ষেত্রে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: