শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের এবার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা !

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের এবার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা !

ভাগ্য পরিবর্তন করতে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন সময়ে পাড়ি জমিয়েছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। তাদের কেউ কেউ বৈধ প্রক্রিয়ায় গিয়ে কিংবা বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে দেশটিতে গ্রেফতার আতঙ্ক ছাড়া থাকতে পারছেন। কিন্তু বিপুল অংশের চিত্র উল্টো। বৈধ হতে সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রতি মূহূর্তে গ্রেফতারের শঙ্কা নিয়ে কাটাতে হচ্ছে তাদের। দেশটিতে এমন বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর থেকে চলমান ‘মেগা-থ্রি’ অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির সরকার। গত ৩১ আগস্ট সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগেই এ অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ। প্রতিদিনই সে দেশে শত শত অবৈধ কর্মীকে আটক করছে পুলিশ।

আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে এ পর্যন্ত আটক হয়েছে তিন হাজারের বেশি বিদেশি কর্মী, এদের অর্ধেকই বাংলাদেশি নাগরিক।

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আগে অবৈধ কর্মীদের বৈধ হতে একাধিকবার সুযোগ দিয়েছে দেশটি। হাইকমিশনও কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য নানাভাবে প্রচার ও সহযোগিতা করার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে। কিন্ত এরপরও অনেকে হাইকমিশনের নির্দেশকে উপেক্ষা করেছেন। এখন সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষে দেশটি অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এখানে হাইকমিশনের আর কিছুই করার নেই। এখন আইন অনুযায়ী, ধরপাকড় বা বহিষ্কার করতে পারে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা জানান, অনেকদিন মালয়েশিয়াতে থাকার পরও যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, এই ধরপাকড় অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। মালয়েশিয়ার পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে। যেখানেই তারা হানা দিচ্ছে, এ খবর পাওয়ামাত্রই কমিউনিটির লোকজন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে সবাইকে সতর্ক করে মুহূর্তেই বার্তা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও ধরপাকড় এড়ানো যাচ্ছে না।

রাজধানী কুয়ালালামপুরে শপিং মল ও তার আশপাশের এলাকায় যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবস্থায় কাজ করছিলেন, তাদের অনেকেই এখন কর্মক্ষেত্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, রয়েছেন আত্মগোপনে। ভয়ে পালিয়ে থাকা এসব অবৈধ বাংলাদেশির অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, কথিত এজেন্টদের হাতে তারা প্রতারিত হয়েছেন। বৈধকরণের সুযোগ নিতে তারা এজেন্টদের কাছে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এজেন্টরা টাকা নিলেও কোনো কাজ করেনি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মোস্তাফা আলি অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, ৩১ আগস্টের মধ্যে এখান থেকে সব অবৈধ শ্রমিককে নিজ নিজ দেশে ফিরত যেতে সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যারা ওই তারিখের মধ্যে দেশে ফিরেননি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ প্রবাসীদের যতক্ষণ আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না, ততক্ষণ সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চলবে।

মোস্তাফা আলী আরও জানান, এবার মালিকপক্ষকেও আইনের আওতায় আনা হবে ও গ্রেফতারের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার আউট পাস সংগ্রহ করতে দেওয়া হবে না। এবার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানার বিধান রয়েছে।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় আট লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের মধ্যে ২০১৬ সালের পর রি-হায়ারিং সুযোগ নিয়ে নিবন্ধন করেছে চার লাখের বেশি শ্রমিক। কিন্তু এ প্রকল্পের সুযোগ নেয়নি দেড় লাখের বেশি শ্রমিক। তারা এখন গ্রেফতারের ভয়ে আছে। তাদের অনেককে দেশে ফিরতে হতে পারে। আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরুর আগেই মালয়েশিয়া পুলিশ আটক করেছে শতাধিক বাংলাদেশিসহ প্রায় তিন হাজার বিদেশি শ্রমিককে। আটককৃতরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত সাত লাখ ৪৮ হাজার ৮৯২ কর্মী এবং ৮৩ হাজার ৯১৯ জন নিয়োগদাতা বৈধকরণ প্রকল্পে নিবন্ধিত হয়। নিবন্ধিতদের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার ৩৩২ জন অবৈধ কর্মীকে বৈধতার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু যে তিনটি ভেন্ডর কোম্পানিকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাদের নাম ভাঙিয়ে বেশ কিছু নকল এজেন্ট বা দালাল বাংলাদেশিদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও কোনো কাজ না করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: