শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ায় এলিট কলেজে মানবপাচারকারী এখন ইউপি চেয়ারম্যান

মালয়েশিয়ায় এলিট কলেজে মানবপাচারকারী এখন ইউপি চেয়ারম্যান

মালয়েশিয়ায় এলিট কলেজে মানবপাচারকারী এখন ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১ নং কাকড়াজান ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ। গত ৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীর নামে মানবপাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ গেছেন বিদ্যুৎ। আর তার পাচারের ফাঁদে পা দিয়ে পার্ট টাইম চাকরির আশায় মালয়েশিয়া যাওয়া শিক্ষার্থীরা এখন যাপন করছেন মানবেতন জীবন।

তারিকুল যে কলেজের হয়ে ছাত্র পাচার করেন সেটি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ৪৯ জালান হাং লেকিউয়ের তিনটি ফ্লোর নিয়ে গড়ে উঠেছে। মূলত বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবসা করেই লাভ করে এই কলেজটি। এক সময় লিংকন কলেজে বিদেশি শিক্ষার্থী ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তারিকুল এই কলেজের এজেন্টশিপ কেনেন।

ঢাকায় ২ নিকুঞ্জের ১১ নং রোডের ২/এ বাড়িতে চলছে এলিট ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্সি। বাংলাদেশ ছাড়াও নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্যে এটি মালয়েশিয়ার এলিট কলেজের এজেন্ট অফিস। মঙ্গলবার সকালে এই অফিসে কথা হয় তারিকুলের ভাই শাহারাজ শাহীনের সঙ্গে।

শাহীন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, মালয়েশিয়ায় এলিট কলেজে ডিপ্লোমায় ভর্তি হলে পার্ট টাইম চাকরি সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ৩ বছরের ভিসা সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রথম বছরের জন্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা টিউশন ফি, ইনভাইটেশন লেটার (ইমজিএস) ফি ৫৪ হাজার টাকা, এয়ারপোর্ট পিক আপ ৫ হাজার টাকা, ভিসা স্টিকার ১০ হাজার টাকা, মেডিকেল ফি ৫ হাজার টাকা এবং প্লেন ভাড়া ২৫ হাজার টাকার হিসেব দিয়ে তিনি বলেন, সবমিলিয়ে ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। কুয়ালালামপুর পৌঁছুলে পার্ট টাইম চাকরির সুবিধাও দেয়া হবে।

গত এপ্রিলে কুয়ালালামপুরে এলিট কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল বাংলানিউজের কাছে অভিযোগ করেন, এলিট কলেজ পুরোপুরি একটি ভিসা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারিকুল এবং শাহীন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কুয়ালালামপুর পাঠান তাকে। তবে কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে নামলে তাকে পিক-আপ করার জন্যে কাউকে খুঁজে পাননি। এ সময় তারিকুলও আর ফোন ধরছিলেন না। ২ দিন পর নিজেই এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে কলেজে আসেন। সেখানে পৌছে দেখতে পান, তার টিউশন ফি’র টাকা জমা দেননি তারিকুল। পরে আবারো বাড়ি থেকে টাকা এনে কলেজে জমা দেন তিনি।


রাফিউল বলেন, পরবর্তীতে বুঝতে পারি ছাত্রদের জন্য মালয়েশিয়ায় পার্ট টাইম জব অবৈধ। আর এলিট ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিলের কারো সঙ্গেই দেখা হয়নি। এখন দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি।

সরজমিন এলিট কলেজ ঘুরে দেখা যায়, জালান লিকুউইয়ে মেনিকুইন রেস্টুরেন্টের ওপর তিনটি ফ্লোরের কিছু অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই কলেজ। সেখানে ক্লাসরুমগুলো শুধুই শো-অফ। কলেজটিতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থী বেশি। তবে এই মানবপাচার কলেজের সবচেয়ে বড় শিকার বাংলাদেশের ছাত্ররা।

শিক্ষার্থী ভিসার নামে মানবপাচারের অভিযোগে ইতিমধ্যে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কুয়ালালামপুরের লিংকন ইউনিভার্সিটিকে। এই কলেজের এজেন্ট জহিরুল ইসলাম সবুজকে সঙ্গে নিয়েই মালয়েশিয়ায় আদমব্যবসা শুরু তারিকুলের। সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন রেইনবো এসডিএন বিএইচডি নামে কোম্পানি। রেইনবোর অধীনেই এখন চলছে আদম ব্যবসা।

মালয়েশিয়ায় পৌছে শিক্ষার্থীরা প্রতারণার শিকার হতে থাকলে ছাঁয়া খোজেন তারিকুল। একসময় কুয়ালালামপুর ছাত্রলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক হিসেবে নিজের পরিচিতি দেয়া শুরু করেন।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত লিংকন ইউনিভার্সিটি ও এলিট কলেজ মিলে ৮ থেকে ১০ হাজার কিশোরকে মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন তরিকুল।

২০১৫ সাল থেকে টাকা খরচ করে টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরির চেষ্টা চালাতে থাকেন তারিকুল। এই হাইব্রিড নেতা টাকা উড়িয়ে সখীপুরের রাজনীতিকেও বিশৃঙ্খল করে তুলছেন। গত ২৮ মে সখীপুর উপজেলায় কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তারিকুল।

সূত্র জানায়, সখীপুর উপজেলার তৈলধারা গ্রামের আব্দুল বাছেদের ছেলে তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ। এলাকায় একজন আদম ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত তিনি। তবে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নন তিনি।

মারবপাচারের অভিযোগে গত ১০ মার্চ ঢাকার খিলক্ষেতে এলিট ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানে সিআইডি অভিযান চালিয়ে ৩৯টি অবৈধ পাসপোর্টসহ তার সহযোগী হাকিম আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ ও তার ভাই শাহারাজ শাহীন পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ওই ঘটনায় সিআইডি’র মিরপুর ইউনিটের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে ওইদিনই খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেন।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: