শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়ায় শনিবার পর্যন্ত কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ !

মালয়েশিয়ায় শনিবার পর্যন্ত কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ !

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত কর্মীদের বৈধ করার বিষয়ে সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈধ হওয়ার জন্য রিহায়ারিং কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধনকারী কর্মী/শ্রমিকদের ভিসা প্রাপ্তির কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। যাতে তারা ভিসা নিয়ে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক বৈধ করার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া সফরকালে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার জন্য সে দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হতে ‘রি-হায়ারিং প্রোগ্রাম’ চালু করে। যার মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হয়। একইসঙ্গে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়, যারা সে দেশে অবৈধভাবে আছে তাদের কোনো প্রকার শারীরিক শাস্তি ব্যতীত শুধু আর্থিক জরিমানা দিয়ে তারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে।

বৈধ হওয়ার জন্য রিহায়ারিং কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধনকারী কর্মী/শ্রমিকদের ভিসা প্রাপ্তির কার্যক্রম আগামী শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলমান থাকবে। যাতে তারা ভিসা নিয়ে তারা বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবে। এজন্য হাইকমিশন হতে প্রতিনিয়ত চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

দালাল, এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে রিহায়ারিং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার জন্য সতর্ক থাকতে বললেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, রিহায়ারিং কর্মসূচিতে রেজিস্ট্রেশনসহ ব্যবস্থাপনার জন্য মালয়েশিয়ার ৩টি ভেন্ডর কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ তিন কোম্পানির যে কোনো একটিতে কোম্পানির মালিক/প্রতিনিধিসহ গিয়ে নাম রেজিস্ট্রেশন করার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়। কোনো দালাল, এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে রিহায়ারিং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে তাদের সতর্ক করা হয়।

মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ হতে বর্তমানে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। এর আগে শুধু জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২০১৬ সালে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় জি-টু-জি প্লাস প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্টসমূহ বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়েছে। তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বোয়েলস জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএসের আওতায় কর্মী পাঠিয়ে থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের সার্বিক চিত্রই পাল্টে গেছে। প্রতিটি গ্রাম এখন শহরে রূপ নিতে শুরু করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে চাঙ্গা। তাই একদিন আমরাও বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করতে পারব। বাণিজ্য ঘাটতি একদিন থাকবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের রফতানি একশ’ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

রফতানির তুলনায় আমদানি তিনগুণ বেশি- এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, কথাটি সত্য নয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

উক্ত অর্থবছরে আমদানিতে রফতানির অবদান ছিল ৬৯ দশমিক ২৫ ভাগ। সামশুল আলম চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে আমাদের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমরা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার রফতানি করি, কিন্তু ওই দেশটি আমাদের দেশে এক বিলিয়ন ডলারও রফতানি করতে পারে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমরা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করি, সেক্ষেত্রে তারা আমাদের দেশে এক বিলিয়ন ডলারও রফতানি করতে পারে না। সে কারণে বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেই যে খারাপ এটা বলা যাবে না।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: