শিরোনাম
প্রচ্ছদ / মালয়েশিয়া / মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে ধোয়াঁশা কাটাবে চলতি মাসেই বিস্তারিত পড়ুন…

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে ধোয়াঁশা কাটাবে চলতি মাসেই বিস্তারিত পড়ুন…

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির ধোঁয়াশা কাটবে এই মাসে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে দুই দেশের মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দুই দেশের এই জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির মিটিংয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগেরান। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম এই মিটিংয়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। মন্ত্রী ছাড়াও এই মিটিংয়ে অংশ নেবেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানরা।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে এই জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির মিটিংয়ের আগে কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে দূতাবাস এবং মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। জানা গেছে মালয়েশিয়ায় অভিবাসন প্রার্থীদের জন্য সর্বনিম্ন অভিবাসন খরচ, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পুরানো পদ্ধতি বহাল রাখা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। মূলত দীর্ঘ ১০ মাস পর জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির এই মিটিং নির্ধারণ করছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে ধোঁয়াশা কাটার। কারণ মালয়েশিয়া সরকার চিঠি দিয়ে সেদেশের রিক্রুটিং সিস্টেম ফরেন ওয়ার্কার এপ্লিকেশন সিস্টেম (এসপিপিএ) ১ সেপ্টেম্বর থেকে অকার্যকর করার ঘোষণা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা বোঝার চেষ্টা করছি। তবে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার বন্ধ হয়নি।

এদিকে বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজ মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেছেন,আশা করেছি এ মাসেই খুলবে। শ্রমবাজার ফের চালুর বিষয়ে দেশটির মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের দূতাবাসের বৈঠক হয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। আশা করছি বিস্তৃত আকারে অচিরেই খুলে যাবে এ শ্রমবাজার।

এদিকে মালয়েশিয়ায় আবার শ্রমিক পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর পরিবর্তিত প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণ এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৫তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটিকে জানানো হয়,অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং আরও রিক্রুটিং এজেন্টকে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে উভয় সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভার মাধ্যমে কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হবে।

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি মিটিং সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কর্মসংস্থান) ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির মিটিংয়ে আশা করছি কর্মী নিয়োগে নতুন পদ্ধতি কী হবে সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্ত্রণালয়ে মালয়েশিয়া আসুন বৈঠক নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সেখানে মালয়েশিয়ায় জিটুজি প্লাস পদ্ধতিকে আরও গতিশীল করাসহ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হয়।

দীর্ঘ ১০ মাস পর মালয়েশিয়া সরকারের এই আহ্বানকে ইতিবাচকভাবে দেখছে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা। বায়রার মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুই সরকারের মধ্যে মিটিং হবে। তারা যদি মনে করে আগের সিস্টেমেই পুনরায় লোক নিয়োগ করা যাবে তাহলে তাই হবে। তারা যদি মনে করে আগের প্রসেস ঠিক আছে তাহলে সেইভাবেই হবে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে দুই মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপরে। তারা আলোচনাটি করুক এটা আমরাও চাই। কারণ ১০ মাসের ওপরে হয়ে গেছে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং হয়নি। এটা হওয়া খুবই জরুরি। এই মিটিং হলে আমরা স্পষ্ট ধারণা পাবো যে মালয়েশিয়া সরকার কী প্রস্তাব আমাদেরকে দিয়েছে এবং আমাদের মন্ত্রণালয় কীভাবে অগ্রসর হতে চায়।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়া সরকার জনশক্তি আমদানির ক্ষেত্রে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতোমধ্যে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে যেসব অনুমোদিত এজেন্ট বিদেশে কর্মী পাঠায়, শিগগির তাদের সবাইকে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আগে মাত্র ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনুমোদন ছিল। মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, সবাইকে এই সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ‌এজেন্সিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা সৃষ্টি হবে,যা কর্মীদের জন্য ইতিবাচক হবে। যার ফলে কমে আসতে পারে অভিবাসন ব্যয়। কারণ জিটুজি পদ্ধতিতে শ্রমিক নিয়োগে মালয়েশিয়ায় অভিবাসন খরচ ছিল মাত্র ৩০ হাজার টাকা। সেখানে বর্তমানে জিটুজি প্লাসের আওতায় খরচ ৪-৫ লাখ টাকা পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে জিটুজি পদ্ধতি চলমান থাকাকালে ২০১৬ সালে বেসরকারিভাবেও কর্মী নিয়োগের সুযোগ রেখে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগে দুই দেশের সরকার চুক্তি করে। এই পদ্ধতিতে বেসরকারি পর্য়ায়ে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে মালয়েশিয়া। এতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর বর্তমান পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দেয়।

প্রবাসীদের সকল ভিডিও খবর ইউটিউবে দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি: